Posts

Showing posts from 2025

খোলা চুল আর মেহেদির ভেতর লুকানো সময়

Image
নিশু সবুজের ভেতর দাঁড়িয়ে ছিল পেছন ফিরে। খোলা চুল পিঠ বেয়ে নেমে এসেছে, বাতাসে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে বারবার। সে জানত না কেউ তাকিয়ে আছে। জানলে হয়তো একটু সরে দাঁড়াত। কিন্তু দিহান তখন থেমে গিয়েছিল। এমন থামা সে আগে কখনো অনুভব করেনি। যেন সময় হঠাৎ বুঝিয়ে দিল—এই দৃশ্যটা মনে গেঁথে রাখো। ভালোবাসা সবসময় চোখে ধরা পড়ে না। কখনো কখনো সেটা বুকের ভেতর ভার হয়ে নামে। দিহানের ঠিক সেটাই হয়েছিল। নিশুর হাত দুটো একটু উঁচু করে তোলা ছিল। আঙুলে মেহেদির নকশা তখনো গাঢ়। সে হাতের দিকে তাকিয়ে দিহানের মনে হয়েছিল, এই হাত একদিন কাঁপবে, ভেঙে পড়বে, আবার শক্ত হবে। তখনো তারা কেউ জানত না, এই হাত আর এই চোখ কত ঝড় পেরোবে। তাদের গল্পটা হঠাৎ করে শুরু হয়নি। ছোট ছোট কথা, নিরব উপস্থিতি, ক্লান্ত দিনের শেষে একে অপরকে খুঁজে নেওয়া—এইসব মিলেই নিশু দিহানের জীবনে ঢুকে পড়েছিল। কোনো প্রস্তাব ছিল না, কোনো নাটক ছিল না। তবু একদিন দিহান বুঝে গিয়েছিল, নিশু ছাড়া তার দিন অসম্পূর্ণ। যেদিন দিহান প্রথম বলেছিল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি,” নিশু তখন অনেকক্ষণ চুপ করে ছিল। চোখ নামানো, হাতের আঙুল নেড়ে নেওয়া। তারপর খুব আস্তে বলেছিল, “সহজ হবে না।” দিহান মাথা নেড়েছিল। ...

শিউলি ফুল, মেহেদি আর হাতের গল্প — এক প্রেমের রঙে রাঙানো দুপুর

Image
 শিউলি ফুলের নরম গন্ধে ভেজা সেই শান্ত দুপুরটায় তোমাকে প্রথম দেখি। তুমি বসেছিলে মেহেদী রাঙা হাত মুঠো করে, যেন তোমার আঙুলে নকশার ভেতর লুকিয়ে আছে অর্ধেক বলা কোনো গল্প। আলোটা ছিল নম্র, আর তোমার চোখে ছিল এমন এক কোমলতা, যা দৃষ্টি সরাতে দেয় না। দূর থেকে তোমাকে দেখলে মনে হতো তুমি যেন নিঃশব্দে লেখা একটি কবিতা; আর কাছে এসে মনে হয়েছিল, সেই কবিতার প্রতিটি লাইন যেন ঠিক তোমার আঙুলের নকশার ভাঁজে লেখা রয়েছে। তোমার পাশে ছড়িয়ে ছিল কয়েকটা টাটকা শিউলি ফুল— সাদা পাপড়ি, কমলা ডাঁটা— যেন তারা মেহেদী রাঙা হাতের সঙ্গে মিল খুঁজতে এসেছে। তোমার সেই নিঃশব্দ উপস্থিতি আর শিউলির সৌরভ মিলে তৈরি হয়েছিল এমন এক দৃশ্য, যা চোখে পুরোটা ধরা যায়, কিন্তু ভাষায় বলা যায় অল্পই। যখন তুমি আঙুলের ফাঁকে একটি শিউলি তুলে নিলে, তখন মনে হলো দুপুরটা নিজেই রঙ বদলে ফেলল। মেহেদীর গাঢ় লাল, তোমার ত্বকের উষ্ণতা আর ফুলের নরম সাদাটে সৌন্দর্য একসঙ্গে এমন এক প্রেমের ছবি তৈরি করল, যা চোখে পড়লে হৃদয় হালকা কেঁপে ওঠে। মেহেদী বলে স্বপ্নের গল্প। শিউলি বলে নরম স্মৃতির গল্প। আর তোমার হাত বলে— “ভালোবাসা আমি উচ্চস্বরে বলি না, আমি তাকে নিঃশব্দে গভীরভাবে বু...

নীরবতার রঙে আঁকা গোপন ভালোবাসা⚪

Image
 ছবিটা যেন প্রথমেই বলে দেয়—এখানে কেউ আছে যে নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে ভয় পায় না, আবার বলতে সংকোচেও ভোগে। মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে শান্ত আঙিনায়, হালকা রোদে তার পোশাকের ভাঁজ দুলছে। হাতে ধরা ছোট্ট একটি ছবির দিকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায়, এটা শুধু একটি আঁকা নয়। এটা তার ভেতরের গোপন পৃথিবী। নীরবতায় তার আকর্ষণ আরও স্পষ্ট হয়। কথা না বলেও সে যেন বলে— “আমার মনে তোমাকে নিয়ে যে অনুভূতিটা আছে, তা আমি লুকিয়েও রাখি, আবার লুকাতে পারিও না।” হাতে ধরা ছবিটির দিকে তাকালে মনে হয়, যেন তার হৃদয়ের দরজাটা একটু ফাঁক করে দেওয়া হয়েছে। রঙিন আকাশ, একাকী গাছ, দূরে ভেসে যাওয়া পাখি—সব মিলিয়ে মনে হয় এক পথচলার গল্প, যেখানে সে হাঁটছে নিঃশব্দে… কিন্তু মনে কারো হাত ধরে। তার আঁকা যেন সরাসরি তোমাকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি লুকানো স্বীকারোক্তি— “তোমাকে কিছু বলার সাহস হয় না, কিন্তু আমার প্রতিটা রঙে তুমি আছো।” যে মেয়েটি কখনো কথা বলে না, সে ছবির মাধ্যমেই বলে দেয় তার ভেতরের গভীর আকর্ষণ। ভালোবাসা সবসময় উচ্চারিত হয় না। অনেক সময় অনুভূতি প্রকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা হলো নীরবতা। মেয়েটি হয়তো বুঝে গেছে—কথায়, মেসেজে বা দৃষ্টিতে সব বলা যা...

নীল শাড়ির উপাখ্যান,নীল শাড়ির সেই মেয়েটি

Image
দুপুরের আলোটা তখন গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে নরমভাবে নেমে আসছে। সেই আলোয় দাঁড়িয়ে আছে এক মেয়ে—পেছন ফিরে। লম্বা কালো চুল পিঠ বেয়ে নদীর মতো নেমে গেছে, আর গায়ে জড়ানো নীল শাড়িটা বাতাসে দুলে এক অদ্ভুত মাধুর্য তৈরি করছে। মনে হয় আকাশের নীল আর তার শাড়ির নীল এক হয়ে গেছে। এই দৃশ্যটাই সেই উপাখ্যানের শুরু, যেখানে প্রেম শব্দে নয়, দৃশ্যে জন্ম নেয়। সে দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ। অভিমান আছে, কিন্তু সেই অভিমান রাগ নয়—মিষ্টি, নরম, ভালোবাসায় ভেজা। এমন অভিমান যে ছুঁতে গেলে ভেঙে যাবে, না ছুঁলে আরো গভীর হয়ে উঠবে। তার শাড়ির প্রতিটা ভাঁজে যেন আলাদা গল্প লুকানো। প্রথম দেখা, প্রথম হাসি, প্রথম লজ্জা—সব যেন এই নীলের গভীরে মিশে গেছে। তার চুলের দৈর্ঘ্যে জমে আছে হাজারো না বলা কথা, যে কথাগুলো সে মুখে বলে না, কিন্তু তার উপস্থিতিই বলার জন্য যথেষ্ট। যে মানুষ তাকে ভালোবাসে, সে জানে—এভাবেই তাকে সবচেয়ে সুন্দর লাগে। নীরব, পেছন ফিরে, একটু অভিমানী, আর সম্পূর্ণ ভালোবাসায় ডুবে থাকা। ছেলেটা দূর থেকে তাকিয়ে থাকে। সে জানে, আজ মেয়েটার এই অভিমান ভাঙাতে তাকে কোনো বড় কথা বলতে হবে না। শুধু একটু কাছে গিয়ে দাঁড়ালেই হবে। কারণ তার উপস্থিতিই মেয়েটার...

Classic Love Story With Red Saree

Image
 বিকেলের আলোটা পাতার ফাঁক গলে নরম হয়ে পড়ছিল চারদিকে। সবুজ বাঁশ ঝাডের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল সে—লাল শাড়িতে মোড়া এক সহজ অথচ অদ্ভুতভাবে আকর্ষণীয় উপস্থিতি। হাতভরা লাল চুড়ি নড়লেই টুংটাং শব্দে যেন পুরো বাতাস কেঁপে উঠত। আমি দূর থেকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বুঝলাম, এই মুহূর্তটা সামান্য কিছু নয়। লাল শাড়ির ভাঁজে যেন লুকিয়ে আছে এক অদেখা গল্প, আর সেই গল্পের দরজা আজই খুলতে যাচ্ছে। সে ধীরে হাতটা সামনের দিকে বাড়িয়ে দিল। চুড়ির মৃদু ঝংকারে আমার হৃদস্পন্দন যেন একটু থেমে আবার নতুন করে শুরু হলো। তার হাতের ইশারাটা ছিল অদ্ভুত—সাহসী, রোমাঞ্চকর, আবার কোমলও। আমি কাছে এগিয়ে যেতেই সে মাথা নিচু করল, লজ্জায় ঠোঁটের কোণে ছোট্ট হাসি ফুটল। আমি বললাম, — আজ তোমাকে আলাদা লাগছে। সে হাসল, — লাল শাড়ি তো… প্রেমকে এমনিই জাগিয়ে তোলে। আমরা দুজনই চুপ করে থাকলাম কিছুক্ষণ। শুধু বাতাস, চুড়ির টুংটাং, আর আমাদের দ্রুত শব্দহীন হয়ে আসা বুকের ধুকপুকানি। তারপর সে ফিসফিস করে বলল, — জানো, আমি চাইলে এই মুহূর্তকে গল্পে বাঁধতে পারি। আমি বললাম, — গল্প তো শুরু হয়ে গেছে অনেক আগেই। আজ কেবল প্রথম লাইনটা চোখে দেখা গেল। সে আর আমি দুজনেই জানতাম, এটা সাধারণ দ...

পথিকের অদেখা দুনিয়া: ধুলোর ভিতর থেকে আলো

Image
   🌫️ সর্বহারা পথিকের ছন্নছাড়া অস্তিত্ব 🌫️ — মাতোয়ারা পথকষ্টের হতচ্ছাড়া একাকীত্ব, আর অদেখা সত্যের ভ্রমণ জীবনকে কখনো কি পথের মতো মনে হয়েছে? যেখানে মোড়ে মোড়ে গল্প, আর গল্পের ভেতরে অনিশ্চয়তা? সেই অনিশ্চয়তার ভিতরেই জন্ম নেয় এক “সর্বহারা পথিক”— যার নিজের নামে কোনো ঠিকানা নেই, কেবল কিছু ভাঙা স্বপ্ন, আর কিছু না চাওয়া পথের ক্লান্ত স্মৃতি। পথিকের সবচেয়ে বড় পরিচয়—তার ছন্নছাড়া অস্তিত্ব। যে অস্তিত্ব সমাজ বোঝে না, শুধু বিচার করে। মানুষ ভাবে—সে বোধহয় হারিয়ে গেছে। কিন্তু আসলে? সে-ই হয়তো সবচেয়ে বেশি খুঁজে বেড়ায় জীবনের খাঁটি রূপ। ধুলো কাঁধে, ভেজা বাতাস গায়ে, রাতের নীরবতাকে সে নিজের ভাষায় পড়ে। তার মনে কোনো অহং নেই, কোনো দাবি নেই— শুধু আছে একটা অদ্ভুত মাতোয়ারা ভাব, যা তাকে বারবার নতুন পথে টেনে নেয়। এই মাতলামি মদের নয়, এই মাতলামি স্বাধীনতার… যা শুধু পথিকরাই বুঝতে পারে। তার একাকীত্বটাও অন্যরকম। এটা কোনো দুর্বলতা নয়, কোনো শূন্যতা নয়। বরং একাকীত্ব তার শিক্ষক— যে শেখায় কাকে ভুলতে হবে, কাকে ক্ষমা করতে হবে, আর কাকে একেবারে জীবনের বাইরে ছুঁড়ে ফেলতে হবে। পথিকের জীবন আকর্ষণীয় হয় ঠিক এই কা...

চোখের কোণায় জমে থাকা আমার নীরব স্বপ্নগুলো

Image
  স্বপ্নগুলো এখনও আমার চোখে জ্বলে… আমার চোখের কোণায় কত স্বপ্ন জমে আছে জানো? নরম আলো ছড়ানো দুইটা ছোট্ট প্রদীপের মতো— যে আলোটা বাইরে থেকে কেউ ঠিকমতো দেখতে পায় না, কিন্তু আমার ভিতরের আকাশটাকে এখনো আলোকিত করে রাখে। আমার ভেতরে যে মানুষটা আছে, সে খুব নরম… খুব চুপচাপ… অনেক কিছু সহ্য করে, অনেক কিছু নিজের মধ্যেই জমা রাখে। তবুও আমার স্বপ্নগুলো— আজও বেঁচে আছে, আজও আকাশ ছুঁতে চায়। জীবনের কত কঠিন পথ আমি একা হেঁটেছি, কত না-পাওয়ার ব্যথা হাসির আড়ালে লুকিয়ে রেখেছি— এগুলো কেউ জানে না। মানুষ শুধু আমার শক্ত দিকটা দেখে, কিন্তু ভিতরের ক্লান্ত মানুষটার গল্পটা কেউ শোনে না। তবুও আমার চোখে এখনো স্বপ্ন আছে— এটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি হার মানিনি, আমি থামিনি, আমি নিজেকে ভাঙতে দেইনি… যতবার জীবন আমাকে ধাক্কা দিয়েছে, ততবার আমি আবার নতুন করে দাঁড়িয়েছি। আমার একটু হাসির ভেতরেও কত কষ্ট লুকিয়ে থাকে, কত গভীরতা থাকে আমার নীরব চোখের ভিতর। তবুও আমি সবার জন্য ভালো চাই, নিজেরটা শেষ পর্যন্ত আগলে রাখি। হয়তো আমারও কিছু স্বপ্ন আছে যেগুলো কাউকে বলা হয়নি আজো… কিন্তু আমি বিশ্বাস করি— যে স্বপ্নগুলো আমি বুকের কাছে...

শুকনো পাতার নীরব গল্প

Image
  🌿 “আমার একটুকরো শুকনো পাতার জীবন… কিছু গল্প লিখেছি, প্রকাশ করাটা বারণ।” 🌿 আকাশের ধূসর রঙ, বাতাসে অদ্ভুত এক নীরবতা, আর চারপাশে ভাঙাচোরা দেওয়ালের মতোই মানুষ—সবাই নিজের নিজের গল্প বুকে লুকিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কখনও প্রকাশ করে, কখনও আবার বুকের ভেতরই একটা গোপন ডায়েরির মতো জমা রাখে। আমি? আমি সেই শুকনো পাতার মতো— যাকে দেখে কেউ বুঝতে পারে না, কতবার ঝড় আমাকে কাঁপিয়ে গেছে। কেউ জানে না, কত রাত আমি নিজের ভেতরের শব্দগুলোকে চেপে রেখেছি, শুধু এজন্য যে… সব গল্প সবাইকে বলা যায় না। ছবিটার ওই মুহূর্তটায় আমি তাকিয়ে ছিলাম দূরের আকাশের দিকে। মানুষ ভাবে—চশমা আর হাসি মানেই সব ঠিক আছে। অথচ সত্যি হলো, হাসিটা শুধু একটা মুখোশ। আর চশমার কাচের পেছনে লুকিয়ে থাকে না-বলা কত গল্প… গল্পগুলো বলা বারণ—কখনও সময়ের কারণে, কখনও মানুষের কারণে, কখনও নিজের কারণেও। শুকনো পাতার জীবন যেমন— একদিন সবুজ ছিলাম, প্রাণ ছিল, আলো ছিল… তারপর ধীরে ধীরে রঙ হারিয়ে ফেললাম। তবুও পড়ে গেলাম না, ঝড়ে উড়ে যাইনি… কারণ আমার ভেতরেও ছিল নিজের মতো করে শক্ত হয়ে বেঁচে থাকার সাহস। মানুষ ভাবে আমি নীরব। আসলে নীরবতার ভেতরেই জমে আছে পুরো একটা জী...

প্রবাসীর জীবনে বাস্তব কিছু কথা…

Image
 জীবনের তাগিদে, স্বপ্নের টানে, পরিবারের মুখে হাঁসি ফোটাতে… অসংখ্য মানুষ পাড়ি জমায় প্রবাসে। কেউ হয়তো নিজের ইচ্ছায়, কেউবা বাধ্য হয়ে। কিন্তু এই “প্রবাস” শব্দটার ভেতরে যে কতটা কষ্ট, কতটা চাপা কান্না, তা শুধু এক জন প্রবাসীই জানে। প্রবাসের জীবন মানেই– একটা ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা। যখন দেশে ঈদের সকাল শুরু হয় নতুন জামার গন্ধে, তখন একজন প্রবাসী হয়তো কাজে ছুটছে ক্লান্ত শরীরে। পরিবারের হাসিমুখ দেখতে গিয়ে নিজের চোখের কান্না লুকিয়ে রাখে কোনো সাদা দেয়ালের আড়ালে। একটা প্রবাসী কখনোই শুধু টাকাই পাঠায় না, সে পাঠায় তার ঘাম, তার রাত জাগা ক্লান্তি, তার একাকীত্ব আর চাপা যন্ত্রণা। দেশে থাকা মা ফোনে বলে, "ভালো আছো তো বাবা?" সে তখন মুচকি হাসে, কারণ জানে– তার খারাপ থাকার খবরটা মা সহ্য করতে পারবে না। রাতগুলো তার কাছে লম্বা হয়ে যায়। একেকটা রাত যেন একটা যুদ্ধ। কোনোদিন শরীর কাঁপে ক্লান্তিতে, কোনোদিন মন কাঁপে মায়ায়। কেউ কদর করে, কেউ ভুলে যায়, কেউ আবার বলে – “তুই তো বিদেশে আছিস, তোকে আর কী কষ্ট?” প্রবাসে থেকেও মন পড়ে থাকে দেশের আকাশে। মায়ের হাসিতে, বাবার কাশিতে, সন...

প্রবাসীদের মুখের হাসি — লুকানো হাজারো কান্নার গল্প

Image
 বিদেশে পা রাখা মানেই যেন একটা নতুন জীবন শুরু করা। নতুন দেশ, নতুন মানুষ, নতুন ভাষা—সবকিছুই অচেনা। অথচ প্রবাসীদের মুখে সবসময়ই দেখা যায় এক চেনা হাসি। সোশ্যাল মিডিয়ার ছবিতে সেই হাসিটা ঝলমল করে, যেন জীবনের সব সুখ সেখানেই জমা। অথচ কেউ বুঝে না, সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে কত অশ্রু, কত না বলা কষ্ট। রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ, শরীর যখন ভেঙে পড়ে—তখনও ফোনের ওপারে থাকা মায়ের কণ্ঠে হাসি ধরে রাখতে হয়। বলতেই হয়, “ভালো আছি মা, চিন্তা কইরো না।” কারণ মা জানলে কাঁদবে, আর সেই কান্না এক প্রবাসী সন্তানের হৃদয় ভেঙে দেবে। তাই চোখের পানি গিলে মুখে হেসে যেতে হয়। বন্ধু-বান্ধবের বিয়ে, ঈদের খুশি, জন্মদিনের কেক—সব কিছুতেই শুধু অনুপস্থিতি। ভিডিও কলে দেখা হয়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না। হাসি দিয়ে সবার সাথে খুশি ভাগাভাগি করতে হয়, আর নিজের ভিতরের শূন্যতাকে চাপা দিতে হয় নিঃশব্দে। প্রবাসীদের হাসিটা যেন একটা মুখোশ—যেটা পরে তারা বাঁচার অভিনয় করে। কারণ এই যুদ্ধটা শুধু টাকার জন্য নয়, ভালোবাসার জন্য, দায়িত্বের জন্য, পরিবারের মুখে সুখের ছোঁয়া আনার জন্য। তাই সবকিছু সয়ে নিয়েও তারা বলে, “ভালো আছি।” মুখে থাকে হাসি, আর মনে জমে থা...

মায়ের কোল থেকে প্রবাস—ভালোবাসার দূরত্ব নয়

Image
 দূরদেশে বসে যখন রাতের আকাশ দেখি, তখন মনে হয়... এই আকাশের নিচেই তো আছেন মা-বাবা। অথচ আমি কত দূরে! একটা ফোনের ওপারে, কিন্তু স্পর্শের বাইরে। গলা শুকিয়ে আসে যখন “মা কী খেয়েছো?” জিজ্ঞেস করি... মা হাসি দিয়ে বলে, “তোর পছন্দের ভর্তা বানাইছিলাম, খাইছিস না থাক, তোর জন্য রাখছি।” কিন্তু জানি, আমি খেতে আসবো না — শুধু মা অপেক্ষা করবে। বাবা হয়তো চুপচাপ থাকেন। ফোনে বেশি কিছু বলেন না। কিন্তু তাঁর কণ্ঠে লুকানো ক্লান্তি আমি শুনতে পাই… যেই বাবা একদিন ছায়া হয়ে পাশে ছিলেন, আজ তাঁকে আমি সাহারা দিতে পারি না। আমি এখানে দিনের পর দিন কাজ করি শুধু এই দু’জন মানুষকে ভালো রাখার আশায়। অথচ মাঝে মাঝে মনে হয়, টাকা পাঠাই ঠিকই… কিন্তু মায়ের কোলে মাথা রাখা বা বাবার সঙ্গে চুপচাপ হাঁটার যে শান্তি, সেটা কোনো রেমিট্যান্সে মেলে না। রাতের খাবার একা খেতে বসলে মনে পড়ে, মা কখনো খালি প্লেটে ভাত তুলে দিতেন না। আর এখন? গ্লাসে পানি পর্যন্ত নিজেই ঢেলে নিতে হয়। বাবা যখন শরীর খারাপের কথা গোপন করেন, তখন বুকের ভেতর হাহাকার করে। কতবার বলেছি, “বাবা, কষ্ট লুকায়ো না…” কিন্তু তিনি শুধু বলেন, “তুই ভালো থাক, আমি ঠিক আছি।” তাদের ভালোবাসা সমুদ্...

একবার যে পুরুষটা বাড়ি ছাড়ে, তার আর ফিরে আসা হয় না...

Image
  পুরুষ মানুষ ক্যারিয়ার গড়ার বাহানায় একবার বাড়ি ছাড়লে, তার আর কখনোই স্থায়ীভাবে বাড়ি ফেরা হয় না..!! ছোটবেলায় যাকে সবাই "আমার ছেলেটা অনেক দূর যাবে" বলে আশীর্বাদ করেছিল—সে সত্যিই অনেক দূরে চলে যায়। দূরত্বটা কেবল কিলোমিটারে মাপা যায় না, মাপা যায় চোখের জল, ফেলে আসা বিকেল, মায়ের ডাকা সেই চেনা নাম ধরে, বাবার ভোরের চা হাতে অপেক্ষায় থাকা মুহূর্তগুলো দিয়ে। প্রবাসী পুরুষটা শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য বাড়ি ছাড়ে না—সে ছাড়ে নিজের আরাম, ভালোবাসা, প্রিয় মুখ, প্রিয় শহর আর নিজের অস্তিত্বের শিকড়। নতুন দেশে, নতুন নিয়মে, নতুন ভাষায়, নতুন সময়ের ঘূর্ণিতে সে নিজেকে খাপ খাওয়াতে গিয়ে নিজেরই অনেকটা হারিয়ে ফেলে। তার জীবনটা সময়ের সাথে একটা হিসেবি যন্ত্রে পরিণত হয়—কত টাকা পাঠালাম, কত মাস ছুটি নেইনি, কত বছর ছেলেমেয়েকে চোখে দেখিনি। মাঝে মাঝে ছবি দেখে কান্না আসে, ভিডিও কলেও গলার কাঁপুনি লুকানো যায় না। তবুও ফিরে যাওয়া হয় না। কেন জানো? কারণ সময় চলে যায়, সম্পর্কের ব্যবধান বাড়ে, নিজের জায়গাটাই পর হয়ে যায়। কেউ বলে—"তুমি তো বাইরেই ভালো", কেউ আর অপেক্ষা করে না সেই রাত্রির বিমানের শব্দ শোনার জন্য। পুরুষ মানু...

"নিঃশব্দ ভালোবাসা" – যেখানে শব্দ নয়, স্পর্শই সমস্ত কথা বলে… 🖤

Image
  তার কাঁধে মাথা রেখে বসে ছিল সে। চারপাশে অনেক মানুষ, আলো-আঁধারির খেলা, অথচ তার চোখে ছিল একটিই দৃশ্য—ওর হাতটা, যেটা হালকা কাঁপছিল… খুব আলতো করে। হাতে সেই পুরোনো ঘড়িটা, যেটা সে দিয়েছিল অনেক বছর আগে, এক জন্মদিনে। দামি কিছু ছিল না, কিন্তু ঘড়ির চারপাশের পাথরের মতো দেখতে নকল হীরা গুলোকে সে বলেছিল—"এইটা সময় নয়, এটা আমার প্রতীক্ষা… তোকে ঘিরে আমার প্রতিটি মুহূর্ত।" সে তখন হেসে বলেছিল, "সময় দিলে ঠিকই পালিয়ে যাবে!" সে বলেছিল, "তুই থাকলে সময় থেমে যাবে।" আজও ঘড়িটা আছে হাতে। সময় অনেক পাল্টেছে, অনেক কিছু বদলে গেছে। তারা এখন পাশাপাশি থাকলেও একসাথে নেই। মুখে কোনো কথা নেই, কাঁধে মাথা রাখাও নেই… কিন্তু মনটা যেন ঠিক আগের মতোই আলতো করে জড়িয়ে আছে। ওর শাড়ির ছাঁট, নখের নরম গোলাপি রং, আর সেই ঘড়িটার টিকটিক শব্দ—সব মিলিয়ে একটা নীরব ভালোবাসা আজও নিঃশব্দে বেঁচে আছে। কারণ প্রেম মানেই কথা নয়, প্রেম মানেই চোখে চোখ নয়… কখনো কখনো, প্রেম মানে শুধু—চুপচাপ পাশে বসে থাকা। আর কেবল অনুভব করা—তুমি আছো… এটাই যথেষ্ট। 🖤✨ লেখক :- মোহাম্মদ মামুনুল ইসলাম চৌধুরী  সৌদি আরব 

মাকে সময় দাও, টাকায় সব ফিরবে না

Image
 ছেলেটা এখন বিদেশে। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে প্রবাসে কাটছে তার জীবন-একাকীত্ব, কঠিন পরিশ্রম আর হাজারো না বলা অভিমানে ঘেরা। তার মা... এখনো সেই পুরনো গ্রামে, মাটির ঘরে। প্রতিদিন বিকেলে উঠোনে বসে থাকেন-চোখ রেখে দেন সেই পথটার দিকে, যে পথ ধরে তার ছেলে একদিন ঢাকা গিয়েছিল, তারপর দেশ ছেড়ে বহু দূরে চলে গিয়েছিল-"ভালো জীবনের" খোঁজে। মা প্রতিদিন দুপুরে রান্না করে ছেলের প্রিয় খাবার। ভাত, আলু ভর্তা আর পান্তা। গামলাটা ছেলের জন্য তুলে রাখেন, মনে করেন, "আজকে না হয় ফোন করবে, বলবে- মা, খাইছি না রে আজ..." কিন্তু ফোন আসে না। ফোন আসে কেবল মাস শেষে, কোনো ATM থেকে টাকা তোলার মেসেজ, বা ছোট ভাইয়ের ফোনে-"ভাইয়া টাকাটা পাঠাইছো?" ছেলেটাও কাঁদে-প্রতিদিন কাজ শেষে, রুমের কোণে বসে মায়ের ছবি দেখে। মনে পড়ে যায়-শৈশবে মা কিভাবে ভিজে গামছা দিয়ে তার গা মুছিয়ে দিতেন, যখন সে খেলতে খেলতে ঘেমে যেত। মনে পড়ে সেই রাতে মা না খেয়ে শুয়েছিলেন, যেদিন ঘরে খাবার ছিল না। আর আজ? আজ মা একা খায়, একা ঘুমায়, একা উঠোন ঝাড়ে, আর রাত নামলে ছেলের খালি গামলাটার পাশে বসে বলে "তুই খেয়ে নিস তো রে বাবা?" এই গল্পটা কোনো এক ছ...

একটা সাদা ফুলের গল্প

Image
  শেষ বিকেলের সেই মুহূর্তটা... শেষ বিকেলের আলোটা ঠিক এমনই হয়, জানো? নরম, ধীরে ধীরে গা ছুঁয়ে যায়। চারপাশে সব কেমন যেন সোনালি হয়ে ওঠে। মেয়েটি বসে ছিল গাড়ির এক কোণায়, কোলে একটা কালো ব্যাগ, আর হাতের আঙুলে ঘুরছিল সাদা একটা ফুলের চাবির রিং। সাদামাটা দেখতে সেই চাবির রিংটায় যেন একটা জাদু লুকানো। বাইরে থেকে কেউ বুঝবে না, কিন্তু মেয়েটির কাছে ওটা ছিল একটা ছোট্ট পৃথিবী। কারণ, ওটাই ছিল তাদের প্রথম ভালোবাসার ছোঁয়া… ছেলেটা একদিন হেসে বলেছিল, "তোমাকে কিছু দেবো, দাম নেই, তবু সারাজীবন সাথে থাকবে।" সেই ছিল এই সাদা ফুল। সেদিন মেয়েটি হেসে বলেছিল, "তুমি ছাড়া কিছুই নেবো না" আর ছেলেটা বলেছিল, "তাই তো দিয়েছি আমাকে—এই ফুলের ছায়ায়।" সময় কেটে গেছে। এখন ছেলেটা নেই পাশে। থাকলেও নেই, আবার না থেকেও অনেক বেশি আছে। প্রতিটি ভোরে, প্রতিটি বিকেলে, মেয়েটির হাতের চাবির রিংটার মতোই কাছাকাছি, অথচ ছুঁয়ে দেখা যায় না। গাড়ির ভেতরে আলো-ছায়ার খেলা, মেয়েটির চোখে পুরনো দিনের ঝাপসা ছবি। কেউ জানে না, কতটা গভীরতা লুকিয়ে আছে ওই একটা ছোট ফুলের পেছনে। ভালোবাসা সবসময় চিৎকার করে জানান দেয় না। অনেকসময় সে চুপচাপ থ...

নুপুর! তুমি কার পায়ে বাঁজো এতো সুমধুর?

Image
ছবি:- সুমাইয়া জান্নাত   নুপুর! নুপুর! নুপুর! তুমি কার পায়ে বাঁজো এতো সুমধুর? তোমার নুপুরের ছন্দে,  আমার মন মন্দিরে আজ বসন্তের হিমেল হাওয়া বইছে  কে গো তুমি মায়াবিনী? মায়ার জালে বেধেছো আমায় তোমার নুপুরের ছন্দে, আমার হৃদয়ে জাগিল আশার জোয়ার কে গো তুমি সঞ্চারিনী? মনমুগ্ধ করেছো আমায় তোমার নুপুরের ছন্দে মন যে আমার হয়েছে ব্যাকুল  কে গো তুমি মন হরিণী?  আমার মন যে তুমি করেছো হরণ  তুমি বার বার এসেও কেন ফিরে যাও  আবার তোমার দেখা না পেলে সবি যে মিথ্যে হবে আমার আমি তোমার লাগিয়া আছি যে পথ চাহিয়া  তবে কি তুমি দিবে গো দেখা?  কে গো তুমি স্বপ্নচারীনি?  মাঝে মাঝে স্বপ্নে এসে দাও দেখা  তোমার নুপুরের সেই সুর আজও আমার হৃদয়ে বাঁজে  সে যেন আপন করে নিতে চায় আমায়  সে যেন আমায় নিয়ে ছুটে যেতে চায়  স্বপ্নের ঠিকানায়  এ মন তোমায় খুঁজে আজ দিশেহারা  তুমি কি দিবে আমার মনের ডাকে সাড়া?

তুমি-ই আমার জগৎ 🫰

Image
    ছবি :- সুমাইয়া জান্নাত   পরিচয়টা আমাদের খুব বেশি দিনের নয়। কিন্তু মনে হয় সহস্র বছর ধরে এই মানুষটাকে আমি চিনি। যেনো তার সবকিছু আমার চেনা অনেক জানা। মানুষটারো ঠিক তাই। মনে হয় এই মানুষটাকে পাবো দেখেই পিছনে রেখে এসেছি কষ্টের সব পথ। একদিন তো তাকে বলেই বসলাম," আসলে তো আসলে তবে এতো পরে কেনো, কতো কিছু সইতে হয়েছে আমাকে জানো তুমি "। ও তখন মুচকি হাসি দিয়ে বলে এই তো চলে এসেছি, কোথাও আর যাবো না। আমি শুধু অবাক হয়ে ভাবি কি করে কেউ এতো যত্ন নিয়ে ভালোবাসতে পারে তাও আমার মতোন খুব সাধারণ একটা মানুষকে। যার মধ্যে আহামরি কিছুর আবেশ নেই। চোখের পানি ফেলতে ফেলতে অভ্যাস হয়ে গেছে বলে নাকি জানি না ওর এতো ভালবাসার ক্ষমতা দেখে আমার চোখে পানি আসে। কি করে এতো মায়া নিয়ে কেউ ভালবাসতে পারে আমার জানা ছিলো না। শুধু তোমায় পেয়েছি বলে প্রতিটিক্ষণ কতোটা আনন্দে থাকি বলে বোঝাতে পারবো না। দুষ্টামির ছলে তোমার আজ বললাম বাসায় আসো তাড়াতাড়ি ,শাস্তি অপেক্ষা করছে তোমার জন্য। তুমি তখন গলা নামিয়ে বললে আমি পাশে নেই এখন এর থেকে বড় শাস্তি আর কি হতে পারে। কি করে তুমি এতো ভালোবাসতে পারো আমাকে আমার জানা নেই। সমস্ত মায়া ন...