Posts

খোলা চুল আর মেহেদির ভেতর লুকানো সময়

Image
নিশু সবুজের ভেতর দাঁড়িয়ে ছিল পেছন ফিরে। খোলা চুল পিঠ বেয়ে নেমে এসেছে, বাতাসে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে বারবার। সে জানত না কেউ তাকিয়ে আছে। জানলে হয়তো একটু সরে দাঁড়াত। কিন্তু দিহান তখন থেমে গিয়েছিল। এমন থামা সে আগে কখনো অনুভব করেনি। যেন সময় হঠাৎ বুঝিয়ে দিল—এই দৃশ্যটা মনে গেঁথে রাখো। ভালোবাসা সবসময় চোখে ধরা পড়ে না। কখনো কখনো সেটা বুকের ভেতর ভার হয়ে নামে। দিহানের ঠিক সেটাই হয়েছিল। নিশুর হাত দুটো একটু উঁচু করে তোলা ছিল। আঙুলে মেহেদির নকশা তখনো গাঢ়। সে হাতের দিকে তাকিয়ে দিহানের মনে হয়েছিল, এই হাত একদিন কাঁপবে, ভেঙে পড়বে, আবার শক্ত হবে। তখনো তারা কেউ জানত না, এই হাত আর এই চোখ কত ঝড় পেরোবে। তাদের গল্পটা হঠাৎ করে শুরু হয়নি। ছোট ছোট কথা, নিরব উপস্থিতি, ক্লান্ত দিনের শেষে একে অপরকে খুঁজে নেওয়া—এইসব মিলেই নিশু দিহানের জীবনে ঢুকে পড়েছিল। কোনো প্রস্তাব ছিল না, কোনো নাটক ছিল না। তবু একদিন দিহান বুঝে গিয়েছিল, নিশু ছাড়া তার দিন অসম্পূর্ণ। যেদিন দিহান প্রথম বলেছিল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি,” নিশু তখন অনেকক্ষণ চুপ করে ছিল। চোখ নামানো, হাতের আঙুল নেড়ে নেওয়া। তারপর খুব আস্তে বলেছিল, “সহজ হবে না।” দিহান মাথা নেড়েছিল। ...

শিউলি ফুল, মেহেদি আর হাতের গল্প — এক প্রেমের রঙে রাঙানো দুপুর

Image
 শিউলি ফুলের নরম গন্ধে ভেজা সেই শান্ত দুপুরটায় তোমাকে প্রথম দেখি। তুমি বসেছিলে মেহেদী রাঙা হাত মুঠো করে, যেন তোমার আঙুলে নকশার ভেতর লুকিয়ে আছে অর্ধেক বলা কোনো গল্প। আলোটা ছিল নম্র, আর তোমার চোখে ছিল এমন এক কোমলতা, যা দৃষ্টি সরাতে দেয় না। দূর থেকে তোমাকে দেখলে মনে হতো তুমি যেন নিঃশব্দে লেখা একটি কবিতা; আর কাছে এসে মনে হয়েছিল, সেই কবিতার প্রতিটি লাইন যেন ঠিক তোমার আঙুলের নকশার ভাঁজে লেখা রয়েছে। তোমার পাশে ছড়িয়ে ছিল কয়েকটা টাটকা শিউলি ফুল— সাদা পাপড়ি, কমলা ডাঁটা— যেন তারা মেহেদী রাঙা হাতের সঙ্গে মিল খুঁজতে এসেছে। তোমার সেই নিঃশব্দ উপস্থিতি আর শিউলির সৌরভ মিলে তৈরি হয়েছিল এমন এক দৃশ্য, যা চোখে পুরোটা ধরা যায়, কিন্তু ভাষায় বলা যায় অল্পই। যখন তুমি আঙুলের ফাঁকে একটি শিউলি তুলে নিলে, তখন মনে হলো দুপুরটা নিজেই রঙ বদলে ফেলল। মেহেদীর গাঢ় লাল, তোমার ত্বকের উষ্ণতা আর ফুলের নরম সাদাটে সৌন্দর্য একসঙ্গে এমন এক প্রেমের ছবি তৈরি করল, যা চোখে পড়লে হৃদয় হালকা কেঁপে ওঠে। মেহেদী বলে স্বপ্নের গল্প। শিউলি বলে নরম স্মৃতির গল্প। আর তোমার হাত বলে— “ভালোবাসা আমি উচ্চস্বরে বলি না, আমি তাকে নিঃশব্দে গভীরভাবে বু...

নীরবতার রঙে আঁকা গোপন ভালোবাসা⚪

Image
 ছবিটা যেন প্রথমেই বলে দেয়—এখানে কেউ আছে যে নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে ভয় পায় না, আবার বলতে সংকোচেও ভোগে। মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে শান্ত আঙিনায়, হালকা রোদে তার পোশাকের ভাঁজ দুলছে। হাতে ধরা ছোট্ট একটি ছবির দিকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায়, এটা শুধু একটি আঁকা নয়। এটা তার ভেতরের গোপন পৃথিবী। নীরবতায় তার আকর্ষণ আরও স্পষ্ট হয়। কথা না বলেও সে যেন বলে— “আমার মনে তোমাকে নিয়ে যে অনুভূতিটা আছে, তা আমি লুকিয়েও রাখি, আবার লুকাতে পারিও না।” হাতে ধরা ছবিটির দিকে তাকালে মনে হয়, যেন তার হৃদয়ের দরজাটা একটু ফাঁক করে দেওয়া হয়েছে। রঙিন আকাশ, একাকী গাছ, দূরে ভেসে যাওয়া পাখি—সব মিলিয়ে মনে হয় এক পথচলার গল্প, যেখানে সে হাঁটছে নিঃশব্দে… কিন্তু মনে কারো হাত ধরে। তার আঁকা যেন সরাসরি তোমাকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি লুকানো স্বীকারোক্তি— “তোমাকে কিছু বলার সাহস হয় না, কিন্তু আমার প্রতিটা রঙে তুমি আছো।” যে মেয়েটি কখনো কথা বলে না, সে ছবির মাধ্যমেই বলে দেয় তার ভেতরের গভীর আকর্ষণ। ভালোবাসা সবসময় উচ্চারিত হয় না। অনেক সময় অনুভূতি প্রকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা হলো নীরবতা। মেয়েটি হয়তো বুঝে গেছে—কথায়, মেসেজে বা দৃষ্টিতে সব বলা যা...

নীল শাড়ির উপাখ্যান,নীল শাড়ির সেই মেয়েটি

Image
দুপুরের আলোটা তখন গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে নরমভাবে নেমে আসছে। সেই আলোয় দাঁড়িয়ে আছে এক মেয়ে—পেছন ফিরে। লম্বা কালো চুল পিঠ বেয়ে নদীর মতো নেমে গেছে, আর গায়ে জড়ানো নীল শাড়িটা বাতাসে দুলে এক অদ্ভুত মাধুর্য তৈরি করছে। মনে হয় আকাশের নীল আর তার শাড়ির নীল এক হয়ে গেছে। এই দৃশ্যটাই সেই উপাখ্যানের শুরু, যেখানে প্রেম শব্দে নয়, দৃশ্যে জন্ম নেয়। সে দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ। অভিমান আছে, কিন্তু সেই অভিমান রাগ নয়—মিষ্টি, নরম, ভালোবাসায় ভেজা। এমন অভিমান যে ছুঁতে গেলে ভেঙে যাবে, না ছুঁলে আরো গভীর হয়ে উঠবে। তার শাড়ির প্রতিটা ভাঁজে যেন আলাদা গল্প লুকানো। প্রথম দেখা, প্রথম হাসি, প্রথম লজ্জা—সব যেন এই নীলের গভীরে মিশে গেছে। তার চুলের দৈর্ঘ্যে জমে আছে হাজারো না বলা কথা, যে কথাগুলো সে মুখে বলে না, কিন্তু তার উপস্থিতিই বলার জন্য যথেষ্ট। যে মানুষ তাকে ভালোবাসে, সে জানে—এভাবেই তাকে সবচেয়ে সুন্দর লাগে। নীরব, পেছন ফিরে, একটু অভিমানী, আর সম্পূর্ণ ভালোবাসায় ডুবে থাকা। ছেলেটা দূর থেকে তাকিয়ে থাকে। সে জানে, আজ মেয়েটার এই অভিমান ভাঙাতে তাকে কোনো বড় কথা বলতে হবে না। শুধু একটু কাছে গিয়ে দাঁড়ালেই হবে। কারণ তার উপস্থিতিই মেয়েটার...

Classic Love Story With Red Saree

Image
 বিকেলের আলোটা পাতার ফাঁক গলে নরম হয়ে পড়ছিল চারদিকে। সবুজ বাঁশ ঝাডের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল সে—লাল শাড়িতে মোড়া এক সহজ অথচ অদ্ভুতভাবে আকর্ষণীয় উপস্থিতি। হাতভরা লাল চুড়ি নড়লেই টুংটাং শব্দে যেন পুরো বাতাস কেঁপে উঠত। আমি দূর থেকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বুঝলাম, এই মুহূর্তটা সামান্য কিছু নয়। লাল শাড়ির ভাঁজে যেন লুকিয়ে আছে এক অদেখা গল্প, আর সেই গল্পের দরজা আজই খুলতে যাচ্ছে। সে ধীরে হাতটা সামনের দিকে বাড়িয়ে দিল। চুড়ির মৃদু ঝংকারে আমার হৃদস্পন্দন যেন একটু থেমে আবার নতুন করে শুরু হলো। তার হাতের ইশারাটা ছিল অদ্ভুত—সাহসী, রোমাঞ্চকর, আবার কোমলও। আমি কাছে এগিয়ে যেতেই সে মাথা নিচু করল, লজ্জায় ঠোঁটের কোণে ছোট্ট হাসি ফুটল। আমি বললাম, — আজ তোমাকে আলাদা লাগছে। সে হাসল, — লাল শাড়ি তো… প্রেমকে এমনিই জাগিয়ে তোলে। আমরা দুজনই চুপ করে থাকলাম কিছুক্ষণ। শুধু বাতাস, চুড়ির টুংটাং, আর আমাদের দ্রুত শব্দহীন হয়ে আসা বুকের ধুকপুকানি। তারপর সে ফিসফিস করে বলল, — জানো, আমি চাইলে এই মুহূর্তকে গল্পে বাঁধতে পারি। আমি বললাম, — গল্প তো শুরু হয়ে গেছে অনেক আগেই। আজ কেবল প্রথম লাইনটা চোখে দেখা গেল। সে আর আমি দুজনেই জানতাম, এটা সাধারণ দ...

পথিকের অদেখা দুনিয়া: ধুলোর ভিতর থেকে আলো

Image
   🌫️ সর্বহারা পথিকের ছন্নছাড়া অস্তিত্ব 🌫️ — মাতোয়ারা পথকষ্টের হতচ্ছাড়া একাকীত্ব, আর অদেখা সত্যের ভ্রমণ জীবনকে কখনো কি পথের মতো মনে হয়েছে? যেখানে মোড়ে মোড়ে গল্প, আর গল্পের ভেতরে অনিশ্চয়তা? সেই অনিশ্চয়তার ভিতরেই জন্ম নেয় এক “সর্বহারা পথিক”— যার নিজের নামে কোনো ঠিকানা নেই, কেবল কিছু ভাঙা স্বপ্ন, আর কিছু না চাওয়া পথের ক্লান্ত স্মৃতি। পথিকের সবচেয়ে বড় পরিচয়—তার ছন্নছাড়া অস্তিত্ব। যে অস্তিত্ব সমাজ বোঝে না, শুধু বিচার করে। মানুষ ভাবে—সে বোধহয় হারিয়ে গেছে। কিন্তু আসলে? সে-ই হয়তো সবচেয়ে বেশি খুঁজে বেড়ায় জীবনের খাঁটি রূপ। ধুলো কাঁধে, ভেজা বাতাস গায়ে, রাতের নীরবতাকে সে নিজের ভাষায় পড়ে। তার মনে কোনো অহং নেই, কোনো দাবি নেই— শুধু আছে একটা অদ্ভুত মাতোয়ারা ভাব, যা তাকে বারবার নতুন পথে টেনে নেয়। এই মাতলামি মদের নয়, এই মাতলামি স্বাধীনতার… যা শুধু পথিকরাই বুঝতে পারে। তার একাকীত্বটাও অন্যরকম। এটা কোনো দুর্বলতা নয়, কোনো শূন্যতা নয়। বরং একাকীত্ব তার শিক্ষক— যে শেখায় কাকে ভুলতে হবে, কাকে ক্ষমা করতে হবে, আর কাকে একেবারে জীবনের বাইরে ছুঁড়ে ফেলতে হবে। পথিকের জীবন আকর্ষণীয় হয় ঠিক এই কা...

চোখের কোণায় জমে থাকা আমার নীরব স্বপ্নগুলো

Image
  স্বপ্নগুলো এখনও আমার চোখে জ্বলে… আমার চোখের কোণায় কত স্বপ্ন জমে আছে জানো? নরম আলো ছড়ানো দুইটা ছোট্ট প্রদীপের মতো— যে আলোটা বাইরে থেকে কেউ ঠিকমতো দেখতে পায় না, কিন্তু আমার ভিতরের আকাশটাকে এখনো আলোকিত করে রাখে। আমার ভেতরে যে মানুষটা আছে, সে খুব নরম… খুব চুপচাপ… অনেক কিছু সহ্য করে, অনেক কিছু নিজের মধ্যেই জমা রাখে। তবুও আমার স্বপ্নগুলো— আজও বেঁচে আছে, আজও আকাশ ছুঁতে চায়। জীবনের কত কঠিন পথ আমি একা হেঁটেছি, কত না-পাওয়ার ব্যথা হাসির আড়ালে লুকিয়ে রেখেছি— এগুলো কেউ জানে না। মানুষ শুধু আমার শক্ত দিকটা দেখে, কিন্তু ভিতরের ক্লান্ত মানুষটার গল্পটা কেউ শোনে না। তবুও আমার চোখে এখনো স্বপ্ন আছে— এটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি হার মানিনি, আমি থামিনি, আমি নিজেকে ভাঙতে দেইনি… যতবার জীবন আমাকে ধাক্কা দিয়েছে, ততবার আমি আবার নতুন করে দাঁড়িয়েছি। আমার একটু হাসির ভেতরেও কত কষ্ট লুকিয়ে থাকে, কত গভীরতা থাকে আমার নীরব চোখের ভিতর। তবুও আমি সবার জন্য ভালো চাই, নিজেরটা শেষ পর্যন্ত আগলে রাখি। হয়তো আমারও কিছু স্বপ্ন আছে যেগুলো কাউকে বলা হয়নি আজো… কিন্তু আমি বিশ্বাস করি— যে স্বপ্নগুলো আমি বুকের কাছে...